শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেরিঘাট ভাঙনের শংকা দেখা দিয়েছে। ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট রয়েছে হুমকির মুখে।
ভাঙনের কারণে এখানকার কয়েকশ’ পরিবার বাড়িঘর নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন রোধ করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের উজানে নতুন পাড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। লঞ্চ ঘাট এলাকার ১নং ব্যাপারীপাড়ার কয়েকশ’ পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। লঞ্চঘাটের বিপরীতে নতুনপাড়ায় দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া না হলে লঞ্চঘাট টিকবে না।
সরেজমিন শনিবার দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানি বাড়ার কারণে লঞ্চঘাটের পন্টুনের যাত্রীদের যাতায়াতের সিঁড়ির মাথা ডুবে গেছে। এ কারণে বালুভর্তি বস্তা ফেলে উঁচু করা হয়েছে। ফেরিঘাটের পন্টুনের র্যাম মিড ওয়াটার থেকে হাই ওয়াটার পয়েন্টে সরানো হয়েছে। তাছাড়া ঘাটের আশপাশের গ্রামের ফসলি জমি ভেসে যাচ্ছে।
গোয়ালন্দের দুইটি ইউনিয়নের দৌলতদিয়া ইউনিয়নের নতুনপাড়া, ১নং ব্যাপারীপাড়া, বাহিরচর, ছাত্তার মেম্বারের পাড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম, কাওয়ালজানি, অন্তারমোড়, কাঁচরন্দ এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দেবগ্রামের অন্তার মোড় ক্রসবাধের সামনে এবং দৌলতদিয়ার নতুনপাড়া এলাকায় জিওব্যাগ ও জিটিউব ব্যগ ফেলা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক ইদ্রিস আলী বলেন, পানি বেড়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যে কারণে গোয়ালন্দের দুইটি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে বেতকা, রাখালগাছি, কাওয়ালজানিতে পানি বেড়ে যেভাবে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তাতে দু’একদিনের মধ্যে পরিস্থতির অবনতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসির ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে ফেরিঘাটের পন্টুনের র্যাম মিড ওয়াটার থেকে হাই ওয়াটার পয়েন্টে সরানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের কারণে এখন ঘাটে ফেরি ফিরতে অনেক সময় লাগছে বলে জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ যুগান্তরকে বলেন, এ বছর বর্ষার আগেই জরুরিভাবে ভাঙন ঠেকাতে অন্তত ১৪ কোটি টাকার বাজেট চেয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে গোয়ালন্দের দুইটি ইউনিয়নসহ অন্যান্য ভাঙন কবলিত স্থানগুলিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হবে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর